top of page
Search

ঈশ্বরের প্রেরিত পৌলের দশটি গুণাবলী

Updated: Feb 24, 2020

একজন মহাননেতার অন্যতম চিহ্ন হচ্ছে সে কিভাবে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে যাবে তা নয় কিন্তু সে কিভাবে সাহসের সাথে তা গ্রহণ করে। প্রেরিত পৌল তাঁর জীবন দ্বারা প্রমাণ দিয়েছেন ।

প্রেরিত পৌল সম্পর্কে পৃথিবীর বিভিন্ন মাধ্যমে অনেক মিথ্যাচার দেখি। অধিকাংশ লোক এই মিথ্যাচার বিশ্বাস করে , ভালবাসে ও ধারণ করে । তারা বিশ্বাস করে অন্যের কথা শুনে কিন্তু তারা ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাছে প্রদত্ত মিথ্যা গুলো Analysis বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে না । তারপরও যারা হাতে গোণা যারা মিথ্যা শিক্ষা গুলো পরীক্ষা করে, তাদেরকে চুপ করে বসিয়ে রাখে, তাদের ক্ষতি করে, তাদের পরিবারের লোকজনের কাছে complain করে ও এমনকি মেরেও ফেলে। অধিকাংশ মানুষ নিজেদের সুবিধামত ধর্ম শিক্ষক খুঁজে ও তাদের ভ্রান্ত শিক্ষা ভালবাসে যেমনি প্রেরিত পৌল বলেছেন ,


"কারণ এমন সময় আসবে, যে সময় লোকেরা সত্য শিক্ষা সহ্য করবে না, কিন্তু নিজেদের ইচ্ছা অনুসারে নিজেদের জন্য অনেক শিক্ষক জোগাড় করবে, এবং সত্যের বিষয় থেকে কান ফিরিয়ে গল্প শুনতে চাইবে" (#২তীমথীয় ৪:৩-৪)।


আজকে এই ক্ষুদ্র আলোচনায় আমরা দেখব , প্রেরিত পৌল কিভাবে এসকল মিথ্যাবাদীদের জবাব দিয়েছেন । তিনি তাঁর আত্মসাক্ষ্যে তিনি দশটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছেন যা মিথ্যাবাদীদের জীবন পালটে দিতে পারে , যারা প্রেরিত পৌলের পরিচর্যা সম্পর্কে জানে না তারা কিছু জানবে ও যারা জানে তাদের বিশ্বাস আরও শক্তিশালী করবে।


আলোচনার শাস্ত্রীয় অংশ:


থিষলনীকীয় মন্ডলীর কাছে সাধু পৌলের আত্মসাক্ষ্য : পবিত্র বাইবেল ১ থিষলনীকীয় ১:২-১২


উপরের শাস্ত্রাংশ থেকে প্রেরিত পৌলের জীবনের দশটি চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হয়েছে ।


প্রথমতঃ প্রভু যীশুর বাণী প্রচারের জন্য নির্মম অত্যাচার সহ্য করেছেন।


আমরা আলোচিত পদগুলিতে দেখতে পাই প্রেরিত পৌল ইউরোপের শহর ফিলিপীতে বেতের মার খেয়েছেন ও জেল খেটেছেন । তিনি এ সম্পর্কে দুই পদে বলেছেন,


"সেইজন্য ফিলিপীতে আগে দুঃখভোগ ও অপমান সহ্য করেছি, তোমরা জান, আমরা আমাদের ঈশ্বরে সাহসী হয়ে অত্যাধিক মানুষের বিরোধ সত্ত্বেও আমরা তোমাদের কাছে ঈশ্বরের সুসমাচারের কথা প্রচার করেছিলাম।"


প্রেরিত পুস্তক আমাদের এই দুঃখভোগের কথা স্পষ্ট করে এভাবে ,


"তাতে লোকরা তাঁদের বিরুদ্ধে গেলো এবং শাসনকর্তা তাদের পোষাক (বস্ত্র) খুলে ফেলে দিলেন ও লাঠি দিয়ে মারার জন্য আদেশ দিলেন। তাদের অনেক মারার পর তারা জেলের মধ্যে দিলেন এবং সাবধানে পাহারা দিতে জেল রক্ষককে নির্দেশ দিলেন।" (#প্রেরিত ১৬:২২-২৩: বিস্তারিত দেখুন প্রেরিত ১৬ অধ্যায় )


আমাদের মনে রাখতে হবে, অসম্মান ও নির্যাতন মানুষকে দূর্বল করে তুলে , মন সম্পূর্ণ ভাবে ভেঙে দেয় ( John Calvin ) । কিন্তু যখন আমরা পৌলের জীবন দেখি এরকম হয়নি বরং তিনি এত অত্যাচারিত হওয়ার পরেও থিষলীনিকীয়সহ বিভিন্ন জায়গায় সুসমাচার প্রচার করেছেন। ঈশ্বর সমস্ত ধরনের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে প্রেরিত পৌলের জীবনে তাঁর শক্তি ও ক্ষমতা প্রকাশ করেছেন। আমাদের আরও মনে রাখতে হবে “ The mark of a great leader is not how well he avoids conflict, but how courageously he accepts it.” ( John Macathur) অর্থাৎ একজন মহাননেতার অন্যতম চিহ্ন হচ্ছে সে কিভাবে দ্বন্দ্ব এড়িয়ে যাবে তা নয় কিন্তু সে কিভাবে সাহসের সাথে তা গ্রহণ করে। প্রেরিত পৌল তাঁর জীবন দ্বারা প্রমাণ দিয়েছেন ।


দ্বিতীয়তঃ প্রেরিত পৌলের প্রচারে কোন ভ্রান্ত মতবাদ( delusional) , অশূচিতার পাপ বা নৈতিকতার স্খলন ( impure )ও প্রতারণা(deception) ছিল না :


তিনি এই তিন পদে বলেছেন ,


"কারণ আমাদের উপদেশ কোন ভ্রান্ত শিক্ষা, কি অশুচিতা বা প্রতারণা থেকে নয়।"


প্রেরিত পৌল পরিষ্কারভাবে থিষলনীকীয় মন্ডলীর কাছে বলেছেন তিনি ও তাঁর সহকারীরা বিশুদ্ধ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রভুর বাক্য দ্বারা নির্দেশনা পেয়েছেন । যে শিক্ষায় কোন প্রতারণা ছিল না । তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করে বলেছেন তাঁর প্রচারিত সুসমাচারের বাণী প্রচলিত ধর্মের মত না। নৈতিকতার অবক্ষয় , ভ্রান্ত দর্শন, যাদু-মন্ত্র,ভাঁওতাবাজি,জালিয়াতি ও অর্থ লাভের জন্য কোন পন্হা অবলম্বন করেনি। আমাদের মনে রাখতে হবে, আজকের দিনের মত দুই হাজার বছর পূর্বে অনেক ধর্মের নেতারা অনেক প্রতারণা জাল ফেলে তাদের দলে আকর্ষণ করার চেষ্টা করত যারা বিভিন্ন পাপসহ গোপনে যৌন পাপে আক্রান্ত ছিল কিন্তু সাধু পৌলের জীবনে এইসকলের কোন স্হান নেই ।


তৃতীয়ত: তিনি কাওকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রচার করেননি বরং ঈশ্বর যা বলতে বলেছেন তাই প্রচার করেছেন :


প্রেরিত পৌল এ সম্পর্কে চার পদে বলেছেন ,


"কিন্তু ঈশ্বর যেমন আমাদের অনুমোদিত করে আমাদের উপরে সুসমাচারের ভার রেখেছেন তেমনি কথা বলছি; মানুষকে সন্তুষ্ট করব বলে নয়, কিন্তু ঈশ্বর, যিনি আমাদের হৃদয় পরীক্ষা করেন।" ( #১থিষলী ২:৪)।


ঈশ্বর প্রদত্ত শিক্ষা হল : মানুষের পাপ থেকে মুক্তি প্রয়োজন, পরিত্রাণকর্তা যীশুকে জানা প্রয়োজন, প্রভু যীশু ক্রুশীয় মৃত্যু ও পুনরুত্থানের প্রয়োজনীয়তা ও নতুন জীবনের গুরুত্ব বুঝা প্রয়োজন। এ সকল মতবাদ বা বিশ্বাসের উপাদানের শিক্ষার সাথে কোন দিনই আপোষ করেননি।


চতুর্থতঃ তিনি সুসমাচার থেকে কোন জাগতিক বিষয়ে লাভবান হওয়ার জন্য কাজ করেননি । আমরা তার প্রমাণ তাঁর দারিদ্র্যতার জীবন দেখলে বুঝতে পারি (বিস্তারিত ২ করিন্হীয় ৩:৩-১০ ; ১১:২৩-৩৩ দেখুন) । তিনি এই সম্পর্কে বলেছেন পাঁচ পদে বলেছেন ,


"কারণ তোমরা জান, আমরা কখনও চাটুবাদে কিংবা লোভজনক ছলে লিপ্ত হইনি, ঈশ্বর এর সাক্ষী;(#১থিষলী ২: ৫) ।


আজকের দিনের মত প্রথম শতাব্দীর ধর্মের মধ্যে প্রতিযোগিতা ছিল। সেই সমস্ত ধর্ম গুলোর প্রচারক ও কর্মীরা লোভ ও প্রাপ্তির আশায় কাজ করত। সেই সময়ের ধর্ম প্রচারকদের সম্পর্কে এক লেখক এইভাবে বলেছেন , "Most of these religions were missionary minded and sought to spread their faith using itinerant evangelists and preachers. Most of these missionaries were opportunists, who took everything they could from their listeners, and then moved on to find someone else to support them."

(সেই সময়ের অধিকাংশ ধর্ম ছিল প্রচার করার মনোভাবের এবং তা প্রচারিত হত ভ্রমণকারী প্রচারকদের দ্বারা। এর বেশিরভাগ প্রচারকরা ছিল সুযোগ সন্ধানী যারা শ্রোতাদের কাছ থেকে যা পারত সব নিয়ে নিত এবং অন্য জায়গায় স্হানান্তরিত হত যেখানে নতুন লোক খুঁজত যারা তাদের সাহায্য করবে)( Endowring Word apps- comment on 1 Thessalonians chapter 2)


তাছাড়া এই সকল ভ্রান্ত ধর্মীয় প্রচারকেরা তোষামোদের কথা বলত যেন তাদের স্বার্থ সিদ্ধি হয় । আমরা তোষামোদ বলতে আমরা বুঝি , যে মানুষের যে Credit নেই তা তাকে দেওয়া । উদাহরণ স্বরূপ বলা যায়, একজন চরিত্রহীন মানুষকে সৎ বলে উচ্চ পদান্বিত করা। তা মিথ্যাভাবে প্রশংসা করা হয় । তোষামোদের মধ্য দিয়ে মানুষ তার নিজ স্বার্থ উদ্ধার করতে চায় । আমাদের মনে রাখতে তোষামোদের বাক্য বলা একটি ভয়ানক মিথ্যা ও পাপ । প্রেরিত পৌল এমন কোন আশ্রয় নেয়নি যা দ্বারা নিজের স্বার্থ উদ্ধার করবে। সেইজন্য


প্রেরিত পৌল এ পদে পরিষ্কার করে বলেছেন তাঁর প্রভুর বাণী প্রচারের উদ্দেশ্য ছিল পবিত্র । তিনি কখনও প্রতারণার আশ্রয় নেননি, তিনি কখনও মানুষকে সন্তুষ্ট করে প্রচার করেননি বা তোষামোদের কথা বলেননি।


পঞ্চমতঃ নিজের গৌরব পাবার চেষ্টা করেনি যা ভ্রান্ত ভাববাদীরা সদাই চেষ্টা করে। এই সম্পর্কে ছয় পদে বলেছেন,


"আর মানুষের থেকে গৌরব পেতে চেষ্টা করিনি, তোমাদের থেকেও নয়, অন্যদের থেকেও নয়, যদিও খ্রীষ্টের প্রেরিত বলে আমরা তোমাদের থেকে সুযোগ নিলেও নিতে পারতাম;"


প্রেরিত পৌল নিজের গৌরব নিয়ে কখনও চিন্তা করে নাই যেমন ভ্রান্ত নবীরা চিন্তা করে থাকে।তাঁর মানুষের গৌরব বা সুনাম প্রয়োজন ছিল না। তাঁর সন্তুষ্টি ছিল প্রভু যীশুর কাছ থেকে যিনি তাঁর জন্য জীবন দিয়েছেন ও নতুন করে সৃষ্টি করেছেন।


ষষ্ঠতঃ প্রেরিত পৌল কারও উপর একনায়কতন্ত্র বা dictatorship চাপিয়ে দেননি বরং বিশ্বাসীদের সন্তানের মত স্নেহ করেছেন ।

তিনি একই অধ্যায়ে সাত পদে এভাবে বলেছেন,


" কিন্তু যেমন মায়েরা নিজের বাচ্চাদের লালন পালন করে, তেমনি আমরা তোমাদের মধ্যে স্নেহের ভাব দেখিয়েছিলাম;"


একজন মা যেমন তার সন্তানের জন্য যেকোন আত্মত্যাগ করতে পারে তেমনি তিনি বিশ্বাসীদের জন্য করেছেন। মায়ের স্নেহ, মমতা ও ভালবাসা যেমন একজন সন্তানদের লালন করে প্রেরিত পৌল সেই দৃষ্টান্ত দেখিয়েছেন।


সপ্তমতঃ বিশ্বাসীদের জন্য নিজের প্রাণ দিতে প্রস্তুত ছিলেন । আটপদে তিনি উল্লেখ করেছেন,


"সেইভাবে আমরা তোমাদেরকে ভালবেসে কেবল ঈশ্বরের সুসমাচার নয়, আপন আপন প্রাণও তোমাদেরকে দিতে সন্তুষ্ট ছিলাম, যেহেতু তোমরা আমাদের প্রিয়পাত্র হয়েছিলে।"


তাঁর এই আত্মত্যাগের শিক্ষা প্রভুর যীশুর আত্মত্যাগ ও বলিদানের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয় ,

"যেমন মনুষ্যপুত্র পরিচর্যা পাইতে আইসেন নাই, কিন্তু পরিচর্যা করিতে, এবং অনেকের পরিবর্তে আপন প্রাণ মুক্তির মূল্যরূপে দিতে আসিয়াছেন।" (#মথি 20:28 ROVU)। ভ্রান্ত নবীরা পরের জন্য কখনও চিন্তা করে না বরং নিজের জন্যই চিন্তা করে।


অষ্টমতঃ তিনি কারও ভার স্বরূপ হননি যেমন ভ্রান্ত ভাববাদীরা করে থাকে । তিনি নয় পদে উল্লেখ করেছেন ,


"হে ভাইয়েরা আমাদের পরিশ্রম ও কঠোর চেষ্টা তোমাদের মনে আছে; তোমাদের কারও বোঝা না হই, সেইজন্য আমরা দিনরাত কাজ করতে করতে তোমাদের কাছে ঈশ্বরের সুসমাচার প্রচার করেছিলাম।"


তিনি প্রেরিত হিসাবে পারিশ্রমিক পাওয়ার অধিকার ছিল যা প্রভু যীশুই সেই নীতিমালা দিয়েছেন যেমন , কার্যকারী আহারের যোগ্য (#মথি ১০:১০)। কিন্তু তিনি সেই সুযোগ নেননি।

এ সম্পর্কে তিনি তাঁর অন্য পত্রে এভাবে বলেছেন,


"যদি তোমাদের উপরে কর্তৃত্ব করিবার অন্য লোকদের অধিকার থাকে, তবে আমাদের কি আরও অধিকার নাই? তথাপি আমরা এই কর্তৃত্ব ব্যবহার করি নাই, বরং সকলই সহ্য করিতেছি, যেন খ্রীষ্টের সুসমাচারের কোন বাধা না জন্মাই। তোমরা কি জান না যে, পবিত্র বিষয়ের কার্য যাহারা করে, তাহারা পবিত্র স্থানের বস্তু খায়, এবং যজ্ঞবেদির সেবা যাহারা করে, তাহারা যজ্ঞবেদির সহিত অংশী হয়? সেইরূপে প্রভু সুসমাচার প্রচারকদের জন্য এই বিধান করিয়াছেন যে, তাহাদের উপজীবিকা সুসমাচার হইতে হইবে। কিন্তু আমি ইহার কিছুই ব্যবহার করি নাই, আর আমার সম্বন্ধে যে এইরূপ করা হইবে, সেই জন্য আমি এই সকল লিখিতেছি না; কেননা কেহ যে আমার শ্লাঘা নিষ্ফল করিবে, তাহা অপেক্ষা বরং আমার মরণ ভাল।" (#১করিন্থীয় 9:12‭-‬15 ROVU)


আমাদের মনে রাখতে হবে , ভ্রান্ত নবী বা শিক্ষকেরা নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য প্রচুর অর্থ সুবিধা নেয় যা তাদের কর্মকান্ড দেখলে বুঝা যায় । কিন্তু প্রেরিত পৌল যে আদর্শ রেখেছেন তা মহৎ ও প্রভুর কার্যকারীরা তাঁর পদাংক অনুসরণ করা উচিত।


নবমতঃ সাধু পৌলের ধার্মিকতার জীবন :

এই পত্রে ১০ পদে এ সম্পর্কে বলেছেন ,


"আর বিশ্বাসী যে তোমরা, তোমাদের কাছে আমরা কেমন পবিত্র, ধার্মিক ও নির্দোষী ছিলাম, তার সাক্ষী তোমরা আছ, ঈশ্বরও আছেন।"


এর কথার মধ্যে দিয়ে প্রেরিত পৌলের জীবনের ঈশ্বরের ধার্মিকতার জীবন বসতি করে তার প্রমাণ দিয়েছেন । তিনি শুধু প্রভু যীশুকেই অনুকরণ করেননি কিন্তু তিনি এমন জীবন যাপন করেছেন যেন তাঁকেও খ্রীষ্টের চরিত্র প্রাপ্তিতে বিশ্বাসীরা অনুকরণ করেন। যেমন তিনি অন্য পত্রে বলেছেন ,


"ভ্রাতৃগণ, তোমরা সকলে মিলিয়া আমার অনুকারী হও, এবং আমরা যেমন তোমাদের আদর্শ, তেমনি আমাদের ন্যায় যাহারা চলে, তাহাদের প্রতি দৃষ্টি রাখ।" (#ফিলিপীয় ৩:১৭)


আজকে কোন খ্রীষ্ট বিশ্বাসী প্রভুর কাজ ও জীবন নিয়ে চিন্তা করে তাহলে প্রেরিত পৌলের ধার্মিকতা ও পবিত্র জীবনের দিকে তাকাতে হবে যেন প্রকৃত খ্রীষ্টের শিষ্য হতে পারেন। তিনি যে সকল কথা গুলি যে শুধু ঈশ্বর জানেন শুধু তাই নয় কিন্তু উক্ত মন্ডলীর বিশ্বাসীরাও সাক্ষী ছিলেন। আজকে অনেকে ধর্মের কার্যকারী বা নবী হিসেবে দাবী করতে পারে। কিন্তু তাদের জীবন পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, তারা হয়ত সুন্দর কথা বলেছেন কিন্তু তাদের জীবনে কোন নৈতিকার মূল্যবোধ নেই। তারা ধর্মের নামে বিনা কারণে অনেক মানুষ হত্যা করেছে, পরের ধন লুন্ঠন করেছে , নৈতিকতার অবক্ষয়ে সব দিক থেকে তারা পতিত। এই রকম ভন্ড নবী ও শিক্ষকদের অনুসারীদের অভাব নেই। প্রভু যীশুর এই সকল ভন্ড নবীদের সম্পর্কে বলেছেন ,"আর তিনি তাহাদিগকে একটি দৃষ্টান্তও কহিলেন, অন্ধ কি অন্ধকে পথ দেখাইতে পারে? উভয়েই কি গর্তে পড়িবে না? (#লূক 6:39 ROVU)।


দশমতঃ ঈশ্বরের আচরণ মানার জন্য বিশ্বাসীদের সান্ত্বনা দিতেন: তিনি ১১ ও ১২ পদে এ প্রসঙ্গে বলেছেন,


"তোমরা তো জান, পিতা যেমন আপন সন্তানদের তেমনি আমরাও তোমাদের প্রত্যেক জনকে উত্সাহ, ও সান্ত্বনা দিতাম, ও শক্তভাবে পরামর্শ দিতাম যেন তোমরা ঈশ্বরের আচরণ মেনে চলো, যিনি নিজ রাজ্যে ও মহিমায় তোমাদের আহ্বান করছেন।"


প্রেরিত পৌল যেমনটি পবিত্র ও ধার্মিকতার মধ্য দিয়ে জীবন যাপন করেছেন তদ্রূপ বিশ্বাসীরা যেন একই ভাবে চলে সেই জন্য উৎসাহ ও সান্ত্বনা দিতেন । ঈশ্বর খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের এজন্যই আহবান করেছেন যেন সেই পবিত্র আচরণ করেন। প্রকৃতপক্ষে, প্রকৃত নবী ও ধর্ম শিক্ষক তাঁর বিশ্বাসীদের সাক্ষাতে আদর্শ রেখে থাকেন। তাঁরা যা বলেন তা করেন। ভ্রান্ত নবীরা বলে একটি করে আরেকটি। কিন্তু প্রেরিত পৌল এমনটি ছিলেন না।


উপসংহার: উপরের কথা গুলো ঈশ্বর ও অনেক সাক্ষীর সাক্ষ্যের উপস্থিতিতে প্রেরিত পৌল বলেছেন। যারা আজকে তাঁর দোষ খুঁজেন তারা ভ্রান্ত শিক্ষায় দীক্ষিত ও পরীক্ষিত, সত্য সাক্ষ্যের বিরোধী ও সত্য প্রকাশ যেন না পেতে পারে তার জন্য সর্বশক্তি ব্যবহার করে। ঈশ্বর নিজেই সাক্ষ্যী যিনি প্রেরিত পৌলকে আশ্চর্যভাবে ব্যবহার করেছেন ও যিনি একটি সত্য সভ্যতার উন্নয়ন করেছেন । প্রেরিত পৌলের কাজ, প্রচার ও জীবন সম্পর্কে প্রেরিত ৯ অধ্যায় থেকে ২৮ অধ্যায় পড়ুন যা আপনার ভুল চিন্তা দূর হয়ে যাবে। আরও আমাদের মনে রাখা উচিত প্ররিত পৌল তাঁর খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের জন্য রোম সম্রাট নীরোর আমলে হত্যা করা হয় । তাঁর জীবনের শেষ চিঠি ২ তীমথিয় তাঁর জীবনের চুড়ান্ত কথা গুলো আমাদের খ্রীষ্ট বিশ্বাসীদের সান্ত্বনা, সাহস, বল ও সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায় কারণ কথাগুলি পবিত্র আত্মার অনুপ্রেরণায় লিখিত। তাই আজকে আপনি যদি প্রেরিত পৌল সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করে থাকেন তাহলে ইতিহাস পর্যালোচনা করে সত্যতা যাচাই করুন আর তাতে জীবন পাল্টে যাবে।


ঈশ্বর আপনাকে প্রচুর পরিমাণে আশীর্বাদ করুণ যেন সত্য জেনে মুক্ত হতে পারেন।।


সাহায্যকারী উৎস:


https://www.google.com/…/bible-comme…/1-thessalonians-2/amp/


ছবির শাস্ত্রীয় অংশ :


(প্রেরিত ২৬: ১৫-১৮)


#পল; #প্রেরিত #পৌল


95 views0 comments

コメント


bottom of page