top of page
Search

আদমকে কোথায় সৃ‌ষ্টি করা হয়েছিল? স্বর্গে না কি পৃথিবীতে এই বিষয়ে বাইবেল ও কোরানের পার্থক্য কি?

Updated: Feb 3, 2021


প্রিয়পাঠক, আদমকে কোথায় সৃষ্টি করা হয়েছিল স্বর্গে নাকি পৃথিবীতে! এই বিষয়ে পবিত্র বাইবেলের শিক্ষার বিপরীতে কোরানের অবস্থান। তাই আসুন সত্য কি তা জানি!


পবিত্র বাইবেলের বক্তব্য

পবিত্র বাইবেলে ঈশ্বর এই পৃথিবীর সব কিছু কিভাবে সৃষ্টি করেছেন তার বিস্তারিত বর্ণনা আছে, আদিপুস্তক ১:১-২৭ পদে। মানুষ সৃষ্টি স্বর্গে নয় পৃথিবীতে ঈশ্বর করেছিলেন। তার পর ঈশ্বর সকল সৃষ্টির উপরে মানুষকে কতৃর্ত্ব করতে অনুমতি দিয়েছেন।


"পরে ঈশ্বর কহিলেন, ভূমি নানাজাতীয় প্রাণিবর্গ, অর্থাৎ স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী গৃহপালিত পশু, সরীসৃপ ও বন্য পশু উৎপন্ন করুক; তাহাতে সেইরূপ হইল।ফলতঃ ঈশ্বর স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী বন্য পশু ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী গৃহপালিত পশু ও স্ব স্ব জাতি অনুযায়ী যাবতীয় ভূচর সরীসৃপ নির্মাণ করিলেন; আর ঈশ্বর দেখিলেন যে, সেই সকল উত্তম। পরে ঈশ্বর কহিলেন, আমরা আমাদের প্রতিমূর্তিতে, আমাদের সাদৃশ্যে মনুষ্য নির্মাণ করি; আর তাহারা সমুদ্রের মৎস্যদের উপরে, আকাশের পক্ষীদের উপরে, পশুগণের উপরে, সমস্ত পৃথিবীর উপরে, ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় সরীসৃপের উপরে কর্তৃত্ব করুক। পরে ঈশ্বর আপনার প্রতিমূর্তিতে মনুষ্যকে সৃষ্টি করিলেন; ঈশ্বরের প্রতিমূর্তিতেই তাহাকে সৃষ্টি করিলেন, পুরুষ ও স্ত্রী করিয়া তাহাদিগকে সৃষ্টি করিলেন। পরে ঈশ্বর তাহাদিগকে আশীর্বাদ করিলেন; ঈশ্বর কহিলেন, তোমরা প্রজাবন্ত ও বহুবংশ হও, এবং পৃথিবী পরিপূর্ণ ও বশীভূত কর, আর সমুদ্রের মৎস্যগণের উপরে, আকাশের পক্ষিগণের উপরে, এবং ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় জীবজন্তুর উপরে কর্তৃত্ব কর। ঈশ্বর আরও কহিলেন, দেখ, আমি সমস্ত ভূতলে স্থিত যাবতীয় বীজোৎপাদক ওষধি ও যাবতীয় সবীজ ফলদায়ী বৃক্ষ তোমাদিগকে দিলাম, তাহা তোমাদের খাদ্য হইবে। আর যাবতীয় ভূচর পশু ও আকাশের যাবতীয় পক্ষী ও ভূমিতে গমনশীল যাবতীয় কীট, এই সকল প্রাণীর আহারার্থে হরিৎ ওষধি সকল দিলাম। তাহাতে সেইরূপ হইল। পরে ঈশ্বর তাঁহার সৃষ্ট বস্তু সকলের প্রতি দৃষ্টিপাত করিলেন, আর দেখ, সকলই অতি উত্তম। আর সন্ধ্যা ও প্রাতঃকাল হইলে ষষ্ঠ দিবস হইল।" (আদিপুস্তক ১:২৪-৩১)


আদম সৃষ্টির বর্ণনাঃ "আর সদাপ্রভু ঈশ্বর মৃত্তিকার ধূলিতে আদমকে (অর্থাৎ মনুষ্যকে) নির্মাণ করিলেন, এবং তাহার নাসিকায় ফুঁ দিয়া প্রাণবায়ু প্রবেশ করাইলেন; তাহাতে মনুষ্য সজীব প্রাণী হইল।আর সদাপ্রভু ঈশ্বর পূর্বদিকে, এদনে, এক উদ্যান প্রস্তুত করিলেন, এবং সেই স্থানে আপনার নির্মিত ঐ মনুষ্যকে রাখিলেন। আর সদাপ্রভু ঈশ্বর ভূমি হইতে সর্বজাতীয় সুদৃশ্য ও সুখাদ্যদায়ক-বৃক্ষ, এবং সেই উদ্যানের মধ্যস্থানে জীবনবৃক্ষ ও সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক, বৃক্ষ উৎপন্ন করিলেন। আর উদ্যানে জলসেচনার্থে এদন হইতে এক নদী নির্গত হইল, উহা তথা হইতে বিভিন্ন হইয়া চতুর্মুখ হইল। প্রথম নদীর নাম পীশোন; ইহা সমস্ত হবীলা দেশ বেষ্টন করে, তথায় স্বর্ণ পাওয়া যায়, আর সেই দেশের স্বর্ণ উত্তম, এবং সেই স্থানে গুগ্‌গুলু ও গোমেদকমণি জন্মে। দ্বিতীয় নদীর নাম গীহোন; ইহা সমস্ত কূশ দেশ বেষ্টন করে। তৃতীয় নদীর নাম হিদ্দেকল, ইহা অশূরিয়া দেশের সম্মুখ দিয়া প্রবাহিত হয়। চতুর্থ নদীর নাম ফরাৎ।পরে সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে লইয়া এদনস্থ উদ্যানের কৃষিকর্ম ও রক্ষার্থে তথায় রাখিলেন। আর সদাপ্রভু ঈশ্বর আদমকে এই আজ্ঞা দিলেন, তুমি এই উদ্যানের সমস্ত বৃক্ষের ফল স্বচ্ছন্দে ভোজন করিও; কিন্তু সদসদ্‌-জ্ঞানদায়ক যে বৃক্ষ তাহার ফল ভোজন করিও না, কেননা যে দিন তাহার ফল খাইবে, সেই দিন মরিবেই মরিবে।" (আদিপুস্তক ২:৭-১৭)


অতএব, পবিত্র বাইবেলের উপরোক্ত বর্ণনা ঈশ্বর কতৃর্ক সত্যয়িত করা হয়েছে, নবী মোশীর দ্বারা। কিন্তু বহু বছর পরে কোরান আদম সৃষ্টির বিষয়ে ঈশ্বরের এই শিক্ষার বিপরীতে ভিন্ন ধরনের শিক্ষা প্রচার করেন, যা ঈশ্বর হইতে নয় কিন্তু ঈশ্বরের নামে চালানো হয়েছে। কারণ, ঈশ্বর কখনোই দুই রকমের শিক্ষা দেয় না।


কোরানের বক্তব্য


“আপনি কি পৃথিবীতে এমন কাউকে সৃষ্টি করবেন যে সৃষ্টি করবে এবং রক্তপাত ঘটাবে? অথচ আমরা নিয়ত আপনার গুণকীর্তন করছি এবং আপনার পবিত্র সত্তাকে স্মরণ করছি?” তখন আল্লাহ বলেন “নিঃসন্দেহে আমি জানি, যা তোমরা জান না।” ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন গ্রন্থ অনুসারে ঈশ্বর তাঁকে খরখরে মাটি থেকে সৃষ্টি করেন। তারপর তাঁর দেহে প্রাণ সঞ্চার করা হয়। হাওয়াকে সৃষ্টি করা হয় আদমের পাঁজর থেকে। সৃষ্টির পর তাঁদের আবাস হয় বেহেশত বা জান্নাতে । মানুষ যেহেতু সকল সৃষ্টির সেরা তাই আল্লাহ ফেরেশতাকুলকে আদেশ করেন আদমকে সিজদা করার জন্য। ইবলিশ ব্যতীত সকল ফেরেশতা এই আদেশ প্রতিপালন করেন।


কুরআনে বলা হয়েছে, “আমি আদমকে পৃথিবীতে আমার প্রতিনিধি নিযুক্ত করিব।” (সূরা আল বাকারা, আয়াত: ৩০)


কুরআনে আদম-এর নাম ১০টি সুরার ৫০ আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।


[ তথ্যসূত্র প্রয়োজন] সূরা আল বাকারা:২/৩০-৩৭=৭ , সুরাআলে ইমরান ৩/৩৩,৫৯ সূরা আল আরাফ, সূরা ইসরা, সূরা আল কাহফ এবং সূরা ত্বোয়া-হা তে তাঁর নাম, গুনাবলী ও কার্যাবলী আলোচনা করা হয়েছে।


সূরা আল হিজর ও সূরা


ছোয়াদে শুধু গুণাবলী এবং সূরা আল ইমরান , সূরা আল মায়িদাহ এবং সূরা ইয়াসীনে আনুসঙ্গিক রুপে শুধু নামের উল্লেখ আছে।


আবূ হূরায়রা থেকে বর্ণিত যে, হযরত

মুহাম্মদ (সাঃ) বলেন, আল্লাহ আদমকে সৃষ্টিকালে তার উচ্চতা ছিল ৬০ কিউবিট এবং মানুষ বেহেশতে প্রবেশকালে আদমের আকার লাভ করবে।


স্বর্গ থেকে বিতাড়নঃ সৃষ্টির পর আদম ও হাওয়ার অবস্থান ছিল বেহেশতে বা স্বর্গে। সেখানে তাদের জন্য গন্ধম ফল খওয়া নিষিদ্ধ ছিল। শয়তানের প্ররোচনায় হাওয়া গন্ধম ফল খেয়ে ফেলেন এবং আদমকে এ ফল খেতে উৎসাহিত করেন।


এটি মানুষের আদিপাপ বলে পরিগণিত হয়। এর শাস্তিস্বরূপ ঈশ্বর আল্লাহ তাদের স্বর্গ থেকে বিতাড়ন করেন এবং শাস্তিস্বরূপ তাঁদের পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেন। আদম এবং হাওয়া পৃথিবীর ভিন্ন দুটি স্থানে অবতরণ করেন। আদম অবতরন করেন সিংহল । দীর্ঘদিন পর আরবের আরাফাত নামক প্রান্তরে তাঁদের পুনর্মিলন হয়।


কোরানের কোন বক্তব্যই ঐতিহাসিকভাবে সত্য নয়, তা ঈশ্বরের নিজ মুখের বক্তবও নয়। কারণ, মোহাম্মাদ ছারা এই ধরনের শিক্ষা আর কোন নবীর মুখে শুনতে পাওয়া যায় নি।


136 views0 comments
bottom of page